January 13, 2026, 5:19 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
নতুন বেতন কাঠামো (পে স্কেল) নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা চললেও আপাতত সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আর্থিক সংকট ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নতুন পে স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট করেছে সরকার। ফলে নতুন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
সরকারি সূত্র জানায়, সময়ের স্বল্পতা ও ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির কারণে এই মুহূর্তে পে স্কেল ঘোষণা বাস্তবসম্মত নয়। এ কারণে বেতন কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সরকারি কর্মচারীদের আয় সহায়তায় মহার্ঘ ভাতা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে পে স্কেল প্রণয়নের প্রক্রিয়া পুরোপুরি থেমে যায়নি। এ লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সময়োপযোগী কাঠামো প্রস্তুতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের পর নতুন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি গণমাধ্যমে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার প্রশ্নই ওঠে না। বর্তমান বাস্তবতায় অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
অন্যদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, পে কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সেখানে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো—বাস্তবসম্মত ও টেকসই একটি বেতন কাঠামো প্রণয়ন।
পে কমিশনের প্রতিবেদনে শুধু বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবই নয়; বরং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আবাসন ব্যয় ও শিক্ষা খরচের মতো সূচকগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বেতন নির্ধারণের মূল রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
২০২৫ সালে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ওই বছরের ১ জুলাই থেকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার পে স্কেলের দিকেই অগ্রসর হয়, যদিও তা এখন স্থগিত।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালের ১ জুলাই কার্যকর হয়েছিল। সাধারণত পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার রেওয়াজ থাকলেও প্রায় এক দশক পার হলেও নতুন স্কেল কার্যকর না হওয়ায় অনেক কর্মচারীর বেতন গ্রেডের সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছে গেছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে জাতীয় বেতন কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগেই প্রায় সমাপ্ত হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। ততদিন পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মহার্ঘ ভাতাই থাকছে প্রধান আর্থিক সহায়তা।